টেকনিক্যাল চাকরি ভালো নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি কাজের পরিধি ও সুযোগ
চাকরি বেছে নেওয়ার সময় অনেক তরুণের মনে একটি প্রশ্ন আসে—টেকনিক্যাল চাকরি ভালো নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি? বিশেষ করে পড়াশোনা শেষ করার পর কোন পথে গেলে ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করা যাবে, সেটি নিয়ে দ্বিধা থাকা স্বাভাবিক।
একদিকে টেকনিক্যাল চাকরিতে নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। অন্যদিকে নন-টেকনিক্যাল চাকরিতে সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ, প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, হিসাবসহ নানা ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।
তাই শুধু “কোনটি ভালো” বললে পুরো উত্তর পাওয়া যাবে না। আপনার পড়াশোনা, আগ্রহ, দক্ষতা, কাজের ধরন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।
এই লেখায় টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল চাকরির কাজের পরিধি, সুবিধা, সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার প্রয়োজন, ক্যারিয়ার সুযোগ এবং কোন ধরনের মানুষের জন্য কোন পথ বেশি উপযোগী—এসব সহজভাবে তুলনা করা হবে।
টেকনিক্যাল চাকরি কী?

টেকনিক্যাল চাকরি হলো এমন কাজ যেখানে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা পেশাগত জ্ঞান ব্যবহার করে কাজ করতে হয়। এখানে শুধু সাধারণ অফিসের দক্ষতা নয়, নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ হিসেবে সফটওয়্যার উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক পরিচালনা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, ডেটা বিশ্লেষণ বা নির্দিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর কাজের কথা বলা যায়।
কাজের ধরন অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতাও আলাদা হতে পারে। কিছু পদে নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি দরকার হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতা ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টেকনিক্যাল চাকরির প্রধান সুবিধাগুলো
টেকনিক্যাল চাকরির একটি বড় সুবিধা হলো আপনি একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা তৈরি করতে পারেন। সেই দক্ষতা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
আরও কিছু সম্ভাব্য সুবিধা হলো—
- নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরির সুযোগ
- প্রযুক্তি ও নতুন পদ্ধতি শেখার সুযোগ
- বিশেষায়িত জ্ঞান কাজে লাগানো
- অভিজ্ঞতার সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ার সুযোগ
- কিছু ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়া
- দক্ষতার ভিত্তিতে ক্যারিয়ারের নতুন পথ তৈরি করা
তবে এসব সুযোগ সব টেকনিক্যাল চাকরি একই রকম নয়। প্রতিষ্ঠান, শিল্প, পদ এবং আপনার দক্ষতার ওপর ক্যারিয়ারের গতি নির্ভর করে।
টেকনিক্যাল চাকরির সীমাবদ্ধতাগুলো
টেকনিক্যাল কাজের জন্য অনেক সময় নিয়মিত শেখার প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তি ও কাজের পদ্ধতি বদলালে আপনাকেও নতুন কিছু শিখতে হতে পারে।
এছাড়া নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে সময় দিতে হয়। কোনো একটি প্রযুক্তি বা পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
নন-টেকনিক্যাল চাকরি কী?

নন-টেকনিক্যাল চাকরি বলতে এমন বিভিন্ন পেশাকে বোঝায় যেখানে মূল কাজের জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা, সংগঠন, বিক্রয় বা প্রশাসনিক দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ, প্রশাসন, কাস্টমার সার্ভিস, কিছু ধরনের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা-ভিত্তিক পদ এর উদাহরণ হতে পারে।
তবে “নন-টেকনিক্যাল” মানে প্রযুক্তি একেবারেই ব্যবহার করা হয় না—এমন নয়। বর্তমান অফিসের অনেক নন-টেকনিক্যাল কাজেও কম্পিউটার, সফটওয়্যার ও অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়।
নন-টেকনিক্যাল চাকরির প্রধান সুবিধাগুলো
নন-টেকনিক্যাল চাকরির ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময় হতে পারে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা, ব্যবসা বোঝা, দল পরিচালনা করা বা সমস্যা সমাধানে আগ্রহ থাকলে এই ধরনের চাকরি আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।
সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো—
- বিভিন্ন বিভাগে কাজের সুযোগ
- যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ
- ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা তৈরি
- নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা
- বিভাগ পরিবর্তনের কিছু সুযোগ
- মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা
বিশেষ করে যারা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য সেলস, মার্কেটিং বা কাস্টমার সার্ভিসের মতো ক্ষেত্র ভালোভাবে মানিয়ে যেতে পারে।
নন-টেকনিক্যাল চাকরির সীমাবদ্ধতাগুলো
সব নন-টেকনিক্যাল চাকরি একই ধরনের নয়। কিছু পদে বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা, গ্রাহকের চাপ বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ থাকতে পারে।
আবার কিছু কাজের ক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতি নাও হতে পারে। আপনার উন্নতি অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, আপনার ফলাফল, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে।
টেকনিক্যাল চাকরি নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি: মূল পার্থক্য সমূহ
দুই ধরনের চাকরির মধ্যে মূল পার্থক্য কাজের প্রকৃতি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায়।
| তুলনার বিষয় | টেকনিক্যাল চাকরি | নন-টেকনিক্যাল চাকরি |
|---|---|---|
| কাজের ধরন | নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা পেশাগত কাজ | ব্যবসা, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক কাজ |
| প্রধান দক্ষতা | বিশেষায়িত জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা | যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা ও সমস্যা সমাধান |
| শেখার ধরন | নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও পদ্ধতি শেখা | ব্যবসা, মানুষ ও প্রক্রিয়া বোঝা |
| কাজের পরিধি | নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গভীর হতে পারে | বিভিন্ন বিভাগে বিস্তৃত হতে পারে |
| মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ | পদভেদে কম বা বেশি | অনেক পদে তুলনামূলকভাবে বেশি |
| প্রযুক্তির ব্যবহার | সাধারণত বেশি | কাজভেদে কম বা বেশি |
| ক্যারিয়ার পরিবর্তন | বিশেষায়িত দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল | দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে |
| উপযোগী ব্যক্তি | প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট কাজে আগ্রহী ব্যক্তি | যোগাযোগ, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী ব্যক্তি |
এই তুলনা সাধারণ ধারণার জন্য। একই প্রতিষ্ঠানের দুইটি পদেও কাজের ধরন অনেক আলাদা হতে পারে।
কাজের পরিধির দিক থেকে কোনটি এগিয়ে?
এখানে সরাসরি একটি পক্ষকে এগিয়ে রাখা ঠিক হবে না।টেকনিক্যাল চাকরিতে কাজের পরিধি অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর হয়। যেমন একজন প্রযুক্তি কর্মী নির্দিষ্ট একটি সিস্টেম, সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ওপর বেশি কাজ করতে পারেন।
নন-টেকনিক্যাল চাকরিতে কাজের পরিধি অনেক সময় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা, গ্রাহক, বিক্রয় বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর দক্ষতা তৈরি করতে চান, টেকনিক্যাল পথ আপনার কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। আর যদি ব্যবসা, মানুষ ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করতে চান, নন-টেকনিক্যাল পথ বেশি মানানসই হতে পারে।
ক্যারিয়ার সুযোগের দিক থেকে কোনটি ভালো?
ক্যারিয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে “টেকনিক্যাল” বা “নন-টেকনিক্যাল” নামটি একাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
একজন দক্ষ টেকনিক্যাল কর্মী অভিজ্ঞতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব নিতে পারেন। একইভাবে একজন দক্ষ সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ বা অপারেশন কর্মীও ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যেতে পারেন।
আপনার ক্যারিয়ার অনেকটাই নির্ভর করবে—
- আপনি কোন শিল্পে কাজ করছেন
- আপনার দক্ষতা কতটা ভালো
- কাজের ফলাফল কেমন
- আপনি নতুন দক্ষতা শিখছেন কি না
- নেতৃত্বের ক্ষমতা কতটা তৈরি করছেন
- প্রতিষ্ঠানে উন্নতির সুযোগ কেমন
তাই চাকরি নেওয়ার আগে শুধু বর্তমান পদ নয়, সেই পদের পরের ধাপগুলোও বোঝার চেষ্টা করুন।
কোন পরিস্থিতিতে টেকনিক্যাল চাকরি ভালো?
আপনার জন্য টেকনিক্যাল চাকরি বেশি উপযোগী হতে পারে যদি—
নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর আগ্রহ থাকে
আপনি যদি কম্পিউটার, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, সফটওয়্যার বা অন্য কোনো কারিগরি বিষয়ে আগ্রহী হন, তাহলে বিশেষায়িত ক্যারিয়ার আপনার ভালো লাগতে পারে।
সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগে
অনেক টেকনিক্যাল কাজে কোনো সমস্যা খুঁজে বের করা এবং তার সমাধান তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত শেখার মানসিকতা থাকে
প্রযুক্তিনির্ভর কাজে নতুন বিষয় শেখার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শেখার আগ্রহ থাকলে এই পথে এগোনো সহজ হতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা তৈরি করতে চান
আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে সেই দক্ষতার ওপর ক্যারিয়ার গড়তে চান, টেকনিক্যাল চাকরি বিবেচনা করতে পারেন।
কোন পরিস্থিতিতে নন-টেকনিক্যাল চাকরি ভালো?
নন-টেকনিক্যাল চাকরি আপনার জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে যদি—
মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগে
গ্রাহক, সহকর্মী বা ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে নন-টেকনিক্যাল কিছু পদ আপনার জন্য ভালো হতে পারে।
ব্যবসা বুঝতে আগ্রহ থাকে
বিক্রয়, মার্কেটিং বা ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবসার বিভিন্ন দিক বোঝার সুযোগ থাকে।
নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী হন
দল পরিচালনা, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে আগ্রহ থাকলে ব্যবস্থাপনা-ভিত্তিক ক্যারিয়ার আপনার জন্য উপযোগী হতে পারে।
কাজের বৈচিত্র্য পছন্দ করেন
একই ধরনের কারিগরি কাজের চেয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কাজ, নতুন সমস্যা এবং ব্যবসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে বেশি ভালো লাগলে নন-টেকনিক্যাল ক্ষেত্র বিবেচনা করতে পারেন।
কার জন্য টেকনিক্যাল চাকরি ভালো?
সহজভাবে বললে, টেকনিক্যাল চাকরি তাদের জন্য বেশি উপযোগী হতে পারে যারা—
- প্রযুক্তি বা নির্দিষ্ট কারিগরি কাজে আগ্রহী
- সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করেন
- নতুন প্রযুক্তি শিখতে আগ্রহী
- নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গভীর দক্ষতা তৈরি করতে চান
- নিয়মিত শেখার জন্য সময় দিতে প্রস্তুত
তবে শুধু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করলেই টেকনিক্যাল চাকরি করতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনার ব্যক্তিগত আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ।
কার জন্য নন-টেকনিক্যাল চাকরি ভালো?
নন-টেকনিক্যাল চাকরি তাদের জন্য বেশি মানানসই হতে পারে যারা—
- মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভালোবাসেন
- ব্যবসা ও বাজার বুঝতে আগ্রহী
- দল নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন
- পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী
- গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে আগ্রহী
- নেতৃত্বের দক্ষতা তৈরি করতে চান
তবে এখানেও একটি বিষয় মনে রাখুন—নন-টেকনিক্যাল চাকরিতেও কিছু প্রযুক্তিগত দক্ষতা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পড়াশোনার বিষয় কি চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ?
হ্যাঁ, তবে এটিই একমাত্র বিষয় নয়।আপনি যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, সেটি কিছু চাকরির যোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। আবার অনেক কর্পোরেট পদে বিভিন্ন শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীর জন্য সুযোগ থাকতে পারে।
তাই শুধু নিজের ডিগ্রির নাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, সেটি দেখুন।
আপনি যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি খোঁজা, বিভিন্ন পদ, যোগ্যতা এবং ক্যারিয়ারের পথ সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা চান, তাহলে বেসরকারি কর্পোরেট চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়ার সহজ গাইড পড়তে পারেন। সেখানে কর্পোরেট চাকরির বিভিন্ন ধরন ও ক্যারিয়ার নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
চাকরি বেছে নেওয়ার আগে ৫টি বিষয় দেখুন
আপনি টেকনিক্যাল বা নন-টেকনিক্যাল—যে পথই বেছে নিন, আগে এই বিষয়গুলো যাচাই করুন।
১. কাজটি আসলে কী?
পদবির নাম নয়, প্রতিদিন কী কাজ করতে হবে সেটি বুঝুন।
২. আপনার দক্ষতার সঙ্গে মিল আছে কি?
আপনার বর্তমান দক্ষতা এবং চাকরির চাহিদা তুলনা করুন।
৩. ভবিষ্যতে শেখার সুযোগ আছে কি?
নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ থাকলে ক্যারিয়ারে এগোনো সহজ হতে পারে।
৪. পরবর্তী পদ কী হতে পারে?
বর্তমান চাকরির পর কোন ধরনের পদে যাওয়া সম্ভব, তা খুঁজে দেখুন।
৫. কাজটি আপনার ভালো লাগে কি?
দীর্ঘদিন যে কাজ করতে হবে, সেটির প্রতি অন্তত কিছুটা আগ্রহ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
এই FAQ অংশে টেকনিক্যাল চাকরি ভালো নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি—এই তুলনা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মনে থাকা সাধারণ প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর দেওয়া হয়েছে। কাজের ধরন, ক্যারিয়ার সুযোগ, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রশ্নোত্তরগুলো দেখুন।
টেকনিক্যাল চাকরি কি নন-টেকনিক্যাল চাকরির চেয়ে ভালো?
সবার জন্য নয়। প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত কাজে আগ্রহ থাকলে টেকনিক্যাল চাকরি ভালো হতে পারে। আর যোগাযোগ, ব্যবসা বা ব্যবস্থাপনায় আগ্রহ থাকলে নন-টেকনিক্যাল চাকরি বেশি উপযোগী হতে পারে।
ফ্রেশারদের জন্য টেকনিক্যাল নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি ভালো?
আপনার পড়াশোনা, দক্ষতা ও আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। যে চাকরিতে বাস্তব কাজ শেখার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ আছে, সেটি ভালো শুরু হতে পারে।
নন-টেকনিক্যাল চাকরিতে কি ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ার করা যায়?
অবশ্যই। সেলস, মার্কেটিং, মানবসম্পদ, অপারেশন ও ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার সঙ্গে দায়িত্ব বাড়তে পারে।
টেকনিক্যাল চাকরিতে কি সব সময় কমিউটার বা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হয়?
না। টেকনিক্যাল চাকরির ধরন অনেক রকম। কোন প্রযুক্তি বা কারিগরি বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে, তা নির্দিষ্ট পদের ওপর নির্ভর করে।
চাকরি বেছে নেওয়ার সময় বেতনকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
বেতন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র বিষয় নয়। কাজ শেখার সুযোগ, কর্মপরিবেশ, ভবিষ্যৎ উন্নতি, কাজের সময় এবং অন্যান্য সুবিধাও বিবেচনা করা উচিত।
নিজের পড়াশোনার বিষয়ের বাইরে চাকরি করা কি সম্ভব?
অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব। তবে যে পদে আবেদন করবেন, সেই পদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা আগে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে আগে সেটি শেখার চেষ্টা করা ভালো।
উপসংহার
টেকনিক্যাল চাকরি ভালো নাকি নন-টেকনিক্যাল চাকরি—এর একক উত্তর নেই। আপনার জন্য কোনটি ভালো, সেটি নির্ভর করবে আপনি কী ধরনের কাজ পছন্দ করেন এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চান তার ওপর।
আপনার যদি প্রযুক্তি, সমস্যা সমাধান এবং নির্দিষ্ট একটি দক্ষতায় গভীরভাবে কাজ করার আগ্রহ থাকে, তাহলে টেকনিক্যাল চাকরি ভালো পছন্দ হতে পারে।
অন্যদিকে আপনার যদি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা, বিক্রয়, মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা বা নেতৃত্বের কাজ বেশি ভালো লাগে, তাহলে নন-টেকনিক্যাল চাকরি আপনার জন্য বেশি মানানসই হতে পারে।
সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হলো শুধু চাকরির নাম বা শুরুতে পাওয়া বেতন দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। কাজের দায়িত্ব, শেখার সুযোগ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং নিজের আগ্রহ—এই চারটি বিষয় মিলিয়ে দেখুন।
সহজ কথায়, যে চাকরি আপনার দক্ষতা ও আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো হওয়ার সুযোগ দেয়, আপনার জন্য সেটিই ভালো চাকরি।
